পানির অপর নাম জীবন। মানুষের বেচেঁ থাকার অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো সুপেয় পানি। কিন্তু আমাদের পরিবেশের কারণে সুপেয় পানির আধার গুলো ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীতে পচাঁত্তর ভাগ পানি আর পচিঁশ ভাগ স্থল। এই পচিঁশ ভাগ স্থলে যে মিষ্টি পানি প্রবাহিত হচ্ছে তার পরিমাণ মাত্র তিন শতাংশ। বাকি সাতানব্বই ভাগ পানি সমুদ্রের, যা লবানক্ত। পানি থেকে বরফ ও মেঘ, মেঘ থেকে বৃষ্টি এবং বরফ গলে নদীর পানির উৎপত্তি। এভাবেই পানি মানুষের স্বাভাবিক জীবন ধারনের গতি প্রবাহকে প্রতক্ষ্য ও পরোক্ষভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সেই পানির অপচয় এবং মনুষ্যসৃষ্ট পরিবেশের কারণে বর্তমানে পানি মানুষের জীবন রক্ষার বদলে জীবন হানির কারণ হচ্ছে।

মানুষের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে এবং নগরায়ন সভ্যতা বিকাশের ফলে রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে নদীর গতীর প্রবাহ। নদী গুলো ¯্রােতস্বিনী নাম হারিয়ে এখন মানুসের ফেলে দেয়া বর্জ্যরে স্তুপে পরিনত হচ্ছে। ক্রমবিকশিত নগরায়নে নর্দমাগুলোকে নদীর সাথে সংযোগ দিয়ে নদীর পানিকে করছে দূষিত। হারিয়ে যাচ্ছে জলাশয় পুকুর ডোবা, খাল-বিল। কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও কাচাঁমালে ভরে যাচ্ছে ¯্রােতস্বিনী নদীগুলো। আবার প্লাস্টিকের অধিক ব্যবহার প্রচলন হওয়ায় পানি ব্যাগ ও প্লাস্টিকে দ্রব্য ও নদী নালার, খাল-বিল ইত্যাদি ভরে যাচ্ছে। পলিব্যাগগুলো জমির মাটিতে মিশে যাচ্ছে, ফলে জমিগুলোর উর্বরতা হারিয়ে ফেলছে।
অন্যদিকে ক্রমাগত মানুষ বৃদ্ধির ফলে খাদ্যের যোগান ঠিক রাখার জন্য ফসলি জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক, রাসায়নিক সার ও বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। শাক-সবজী ফলমূল এবং গাছে গাছে চলছে কীটনাশক ও বিভিন্ন প্রকারের রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার। পুকুর, ডোবা নদী,-নালা, খাল-বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ার পলে পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় পানিতে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ মিমে পানিকে করছে দূষিত।
টিউবয়েল বা সাবমারসিবল দ্বারা যে পানি আমরা মাটির নীচে থেকে সংগ্রহ করি তা মূলত সিরিঞ্জের ন্যায় মাটির পার্শ্ব থেকে টেঁনে এনে উপরে উঠিয়ে দেয়। মাটির নীচের পানির মূল আধাঁর হলো প্রধানত সমুদ্র এবং স্থল ভাগের পুকুর, ডোবা, নদী-নালা, জলাশয়, খাল-বিল ইত্যাদি। বৃষ্টির পানি গাছ ও মাটি ধুয়ে পুকুর ডোবা খাল-বিল ইত্যাদি ভরাট করে এবং নদী সেই পানি গুলোকে সমুদ্রে ঠেলে দেয়। এদিক দিয়ে বলা যায় সমুদ্রের পানিও দূষিত হতে শুরু করেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে আমরা যে ফলাফল পাই তা আগামী বিশ্বের ভয়াবহ করুণ চিত্র বিনা আর কিছুই না। এ ব্যাপারে যারা জানেন এবং যারা প্রকৃতি নিয়ে গবেষনা করছেন তারা মাঝে মাঝেই মানুষকে সজাগ ও সচেতন হতে পরার্মশ দিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) এ ব্যাপারে কাজ করে চলেছে। আমাদের দেশের সরকার ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একযোগে পরীক্ষা করে গেছেন পত্র পত্রিকায় এই সকল মাঝে মাঝে প্রকাশিত ও হয়। কিন্তু হায়! দেখে কয়জন?

সিসা ও আর্সেনিকের বিষাক্ত নেতৃত্বে শরীরে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়-
১। মাথাব্যাথা
২। বিরক্তি / রোষ প্রবনতা
৩। সংবেদনশীলতা হ্রাস
৪। খিটখিটে আচারণ
৫।অনিয়মিত নিদ্রা
৬। ক্ষুধামন্দা
৭। কোষ্ঠকাঠিন্য
৮। রক্তস্বল্পতা/রক্তশূন্যতা
অতিরিক্ত জটিলতা শিশুদের ক্ষেত্রে-
১। উন্নয়নমূলক দক্ষতার হ্রাস
২। খিটখিটে আচারণ ও মনোযোগের অভাব
৩। কানে কম শোনা
৪। কিডনীর বিকলঙ্গতা
৫। হ্রাসপ্রাপ্ত IQ
৬। মন্থর বেড়ে উঠা।

IRON & COPPER  এর ফলে মানবদেহে কি কি সমস্যা দেখা দেয়? পদ্ধতিগত-
১। শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
২। জ্বর
৩। ব্যাথা
৪। চোখ ও চামড়া হলদে হওয়া
মুখে ধাতব স্বাদ
পেশিতে খিচুনী

Ashes/Rubbish

দূর্বলতা-
যকৃৎ (লিভার)
ক্রিয়া কমে যাওয়া
অভ্যন্তরীন অতিসার বা ডায়রিয়া
সচরনশীল-
এ্যানেমিয়া পক্ষাঘাতের আক্রমণ
গ্যাসট্রিক-
বমি হওয়া/ বমি বমি ভাব
পেটব্যাথা-
পেট ও গলা জ্বালাপোড়া করা
কিডনী-
প্রসাব করতে পারেনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top